গড়ের অরণ্য: রাজেন্দ্রপুর ও বনখড়িয়া বনাঞ্চল


গড়ের অরণ্য: রাজেন্দ্রপুর ও বনখড়িয়া বনাঞ্চল

গাজীপুরের লাল মাটির এই বনাঞ্চল মূলত শালবনের জন্য বিখ্যাত। এখানে সারি সারি শাল গাছ যেন আকাশের দিকে হাত বাড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে। রাজেন্দ্রপুর থেকে বনখড়িয়া পর্যন্ত বিস্তৃত এই এলাকাটি জীববৈচিত্র্য এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অনন্য আধার।

১. বনের প্রধান আকর্ষণ: শাল ও গজারী

এই বনের প্রাণ হলো শাল গাছ (Shorea robusta)। স্থানীয়ভাবে একে গজারী গাছও বলা হয়। শীতকালে এই বনের পাতা ঝরে গিয়ে এক রুক্ষ কিন্তু মায়াবী রূপ ধারণ করে, আবার বসন্তের আগমনে কচি পাতার সবুজ সমারোহে বন সেজে ওঠে নতুন সাজে।

২. জীববৈচিত্র্য

রাজেন্দ্রপুর ও বনখড়িয়া বনাঞ্চল এক সময় বাঘ ও বড় বড় বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল থাকলেও এখন মূলত ছোট ছোট বন্যপ্রাণী ও পাখির বিচরণ বেশি।

  • প্রাণী: বানর, কাঠবিড়ালি, শিয়াল এবং বিভিন্ন প্রজাতির সাপ।

  • পাখি: ঘুঘু, কাঠঠোকরা, শালিক, এবং ফিঙের মতো দেশি পাখির কলকাকলিতে মুখর থাকে এই বন।

৩. পর্যটন ও ইকো-রিসোর্ট

বনখড়িয়া ও রাজেন্দ্রপুর বর্তমানে শুধু বনের জন্যই নয়, বরং এখানকার আধুনিক ইকো-রিসোর্টগুলোর জন্যও জনপ্রিয়। বনের পরিবেশ নষ্ট না করে গড়ে তোলা হয়েছে বেশ কিছু নান্দনিক রিসোর্ট, যেখানে মানুষ উইকএন্ডে ছুটি কাটাতে আসে। এছাড়া এখানে রয়েছে:

  • রাজেন্দ্রপুর ইকো পার্ক: বনের সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য একটি সংরক্ষিত এলাকা।

  • শুটিং স্পট: নাট্য ও চলচ্চিত্র নির্মাতাদের কাছে এই বনের আঁকাবাঁকা পথ ও নির্জনতা অত্যন্ত প্রিয়।

৪. যাতায়াত ব্যবস্থা

ঢাকা থেকে মাত্র ৪০-৫০ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় খুব সহজেই এখানে আসা যায়।

  • বাস: ঢাকা থেকে ময়মনসিংহগামী যেকোনো বাসে উঠে রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তায় নেমে সিএনজি বা অটোতে করে বনখড়িয়া যাওয়া যায়।

  • ট্রেন: ঢাকা থেকে ট্রেনে করে রাজেন্দ্রপুর স্টেশনে নেমেও সহজেই বনে পৌঁছানো সম্ভব।


সতর্কতা ও পরিবেশ রক্ষা: বনের ভেতরে প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলবেন না। শালবন আমাদের জাতীয় সম্পদ; এই বনের গাছ কাটা বা বন্যপ্রাণীর ক্ষতি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ